
গত ০১/০৪/২০২৬ খ্রীঃ বুধবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় দরবার শুরু হয়, বিকাল চারটায় দরবার শেষ হয় ।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলমান বিরোধের অবশেষে শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের উদ্যোগে এই বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে।
জানা যায়, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায় ১২ বছর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সময়ের সাথে সাথে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে, যার ফলে একাধিকবার সংঘর্ষ, মামলা-মোকদ্দমা এবং সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সরজমিনে গিয়ে যানা যায়, বিগত ২০১৪ সালে আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে। মরহুম সিরাজুল হক চেয়ারম্যান
ও মরহুম হাফিজুর রহমান (সাহেদ চেয়ারম্যান) গ্ৰুপের মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়েছিল।ঝগড়ায় উভয়ের ১৮ জন ব্যক্তি খুন হয় ৪ জন গুম ও ৪ জন পংঙ্গুত্ব বরন করেন। বহু বাড়ীঘড় ভাংচুর সহ আগুনে পুড়িয়েছে উভয় গ্ৰুপের কোটি, কোটি টাকার ধন সম্পদ ক্ষতি হয়েছে। উক্ত দরবারে (ভ্যাচুয়ালি)উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলার বিএনপির মনোনীত, নব নির্বাচিত, এম পি ইন্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল । আরো উপস্থিত ছিলেন রায়পুরা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি,এম এন জামান, নরসিংদী জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট কাজী নজরুল ইসলাম, রায়পুরা উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি এম ফখরুল ইসলাম। বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি আতাউর রহমান। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ সরকার (ছন্দু) সহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনা হয়। একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মীমাংসা অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা একে অপরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করেন। এ সময় এলাকাবাসীও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত থেকে এই মিলনমেলাকে স্বাগত জানান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। আজকের এই মীমাংসা আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির খবর।”
উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন বিরোধ আর সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এলাকাবাসীর আশা, এই মীমাংসার মাধ্যমে বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে।