
সংগ্রামময় জীবনের গল্প: প্রতি
অত্যন্ত প্রতিকূলতা, দারিদ্র্য ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছেন এক সংগ্রামী তরুণ। জীবনের প্রতিটি ধাপে কষ্টকে বরণ করেও তিনি থেমে থাকেননি—বরং কলমকে সঙ্গী করে নিজের পথ নিজেই তৈরি করে চলেছেন।
তার পিতা মোঃ হারিছ মিয়া ছিলেন ফুটপাতে বই ব্যবসায়ী এবং একজন সুফি সাধক। ধর্মীয় নানা গ্রন্থ সংগ্রহ ও পাঠে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আগ্রহী। শুধু নিজে পড়তেন না, অন্যদেরও পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেন। সেই পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠেন তার সন্তান। বাবার কাঁধে বইয়ের বোঝা, আর সেই বোঝা বইতেই গড়ে ওঠে সন্তানের শিক্ষার ভিত্তি।
শৈশব থেকেই তাকে লড়াই করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। কখনো প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পাননি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিজের চেষ্টায় অর্জন করেছেন জ্ঞান। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে বারবার আঘাত করলেও তিনি হার মানেননি।
বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবেও মারাত্মক কষ্টের মধ্যে আছেন। তার দুই হাতই ভাঙা অবস্থায় রয়েছে—যা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবুও তিনি থেমে নেই। সীমাবদ্ধতার মাঝেও লেখালেখির মাধ্যমে নিজের অভিব্যক্তি তুলে ধরছেন। অন্য কোনো কাজ করতে না পারলেও, লেখার মাধ্যমেই তিনি নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন।
তার ভাষায়, “আমাকে আঘাত দিয়ে কথা বলে আপনাদের কোনো লাভ নেই। আমি কষ্ট পেতেই অভ্যস্ত। জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত কষ্টই আমার সঙ্গী। সুখ কি জিনিস—আমার পরিবার তা কখনো জানেনি।”
এই প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করে নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস—মানুষ পাশে থাকলে তিনি আরও এগিয়ে যেতে পারবেন।
এই সংগ্রামী তরুণ সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন, যাতে তিনি তার লেখনী দিয়ে সমাজের কথা তুলে ধরতে পারেন।
শেষ কথা:
জীবনের কঠিন বাস্তবতা যেখানে অনেককে থামিয়ে দেয়, সেখানে তিনি কষ্টকে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে চলেছেন। তার এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য এক শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে ।