
সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪৯ সদস্যের মন্ত্রীসভা নিয়ে নতুন সরকারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে পূর্ণোদ্যমে শুরু হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মনোনয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিক দফায় পর্যালোচনা চালাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের মতামত ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সামনে এলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার পাটাবুক ইউনিয়নের উত্তর পাইকসা (মোল্লা বাড়ি) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আজমিরি বেগম ছন্দা। তিনি মো. আবুল কাশেম মোল্লা ও মরহুমা হাসিনা বেগমের কন্যা। বর্তমানে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করছেন।
শিক্ষাজীবন থেকেই তার রাজনীতিতে সক্রিয় সম্পৃক্ততা। ১৯৮৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। সে সময় তিনি বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় তিনি এলএল.বি, বিএ (অনার্স) এবং দর্শনে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তাকে একজন দক্ষ ও শিক্ষিত সংগঠক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দলীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি বৃহত্তর লালবাগ থানার ছাত্রদলের প্রস্তাবিত সহ-সভাপতি এবং মহিলা দলের প্রস্তাবিত আহ্বায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি ‘মহিলা উপার্জন উন্নয়ন শিক্ষা কাউন্সিল (মউশিকা)’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এছাড়া Lions Clubs International-এর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর মহাসচিব এবং ‘ফ্রিডম ফর সিটিজেন রাইটস (FCR)’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, দলীয় আনুগত্য, তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব দিক বিবেচনায় অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা মনোনয়ন দৌড়ে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছেন।
তবে এখনো পর্যন্ত বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট মহল।