
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: কূটনৈতিক প্রটোকল না কি রাজনৈতিক বার্তা?
নিজস্ব প্রতিনিধি:- দৈনিক বাংলার মুক্তকন্ঠ.৭১ সংবাদ!
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যে অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে নিজেকে কোণঠাসা মনে করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে। সে প্রেক্ষাপটে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ শুধু নিয়মরক্ষার ঘটনা নয়, বরং এটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। যদিও এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানির নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে দেশটির বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবের কারণে। বাংলাদেশের সংবিধান ও কূটনৈতিক রীতিতে রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র রাষ্ট্রপতির কাছেই পেশ করার বিধান থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাস্তবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছিল—এমন আলোচনা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি, অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্যের ওপর কূটনৈতিক জোর এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষোভ প্রকাশের পর এই সাক্ষাৎ তার জন্য কৌশলগত স্বস্তির বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। সব মিলিয়ে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ কোনো প্রথম ঘটনা না হলেও, এটি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।