
আমি কোন নেতা নই আমি শ্রমিকদের ভাই, আমি যদি একমুঠো ডালভাত খাই তবে আমার ভাইয়েরা তার আধমুঠ পায়। এটাই আমার মানসিক প্রশান্তি ও তৃপ্তির খোঁড়াক জোগায়। দলের বহু বড় বড় নেতা আছেন তাদের সুন্দর ড্র্যাসআপ করা কর্মীও আছেন কিন্তু আমার এই রিকশাওয়ালা, বাস ও অটোওয়ালা ভাইদের জন্য কেউ নেই কিন্তু তাদের জন্য আমি আছি। আমি নেতা নই আমি শিল্পপতি নই, আমি এই অবহেলিত লোকদের সুখে হাসি এই অবহেলিত লোকদের দুঃখে কাঁদি। এটাই আমাকে সুখ দেয়।
কথাগুলো বলছিলেন, কেন্দুয়া উপজেলা শ্রমিকদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দুয়া মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের চারবারের নির্বাচিত সভাপতি এবং কেন্দুয়া উপজেলা রিকশা শ্রমিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এহতেশামুল হক শাহীন।
তিনি নেত্রকোনা জেলা শ্রমিক দলের সহ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
এই পদপদবীগুলো আর ওনার বক্তব্য থেকেই বুজা ওনার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবটুকুই সাধারণ শ্রমিকদের জন্য ব্যায় করেছেন। বিগত ৫ তারিখের পর কেন্দুয়া বাসস্ট্যান্ডের জরাজীর্ণ শ্রমিক অফিসে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ষাটোর্ধ ১০/১২ জন শ্রমিক বসে আছেন যারা বয়সের ভারে এখন বাস,অটো চালাতে পারেননা। অভাবগ্রস্থ সংসার নিয়ে নিদারুন কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমরা নেতার জন্য বসে আছি, নেতা টাকা দিবে পরে বাজার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে রান্না হবে!
নেতা কে? জিজ্ঞেস করলে, হোসেন মিয়া নামে একজন বলেন, আরে আমাদের শ্রমিক নেতা শাহীন ভাই।
তিনি গণমানুষের নিকট নেতা নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ওনার উদার মানবিক গুণের জন্য।
ওনার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় গদি ফার্নিচার নামে একটা পাইকারি ফার্নিচার সামগ্রী কারখানায় কিছু তরুণ যুবক ব্যাস্ত সেখানে। দরিদ্র পরিবারের এই তরুণ যুবকদের তিনি নিজের কারখানায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
কোথাও কোন শ্রমিক মারা গেলে সেই পরিবারের পাশে দাড়ান নগদ অর্থ সহযোগিতা এবং পরিবারের ভরণপোষণের ব্যাবস্হা করে দিয়ে।
পদ দিয়ে নয় বরং ওনার শ্রমজীবী মানুষের প্রতি এমন মহানুভবতা দিয়ে সকলের মুখে মুখে নেতা শাহীন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
এহতেশামুক হক শাহীনের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীর কথা হলে তিনি বলেন, আমার নেতা,চেয়ারম্যান,মেয়র এসবের দরকার নেই। আমি এই শ্রমিকদের পাশে সারাজীবন এভাবে থাকতে পারলেই খুশী।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনৈতিক পদচারণায় বহু মামলা হামলা নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের করা কালো অধ্যায় জননিরাপত্তা আইনে দেশের প্রথম দায়ের করা মামলার একনাম্বার আসামি ছিলেন তিনি। জাতীয় রাজনীতির কালো পাতায় এখানো এহতেশামুল হক শাহীনের নামটা লিপিবদ্ধ আছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩৮ টি মামলার আসামি হয়েও ছিলেন এই সাধারণ শ্রমিকদের মাথার উপর বটবৃক্ষের মতো। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা উৎখাতের পর এই ত্যাগী নেতার ত্যাগের উপযুক্ত মূল্যায়ন পাচ্ছেননা বলে ক্ষুব্ধ কন্ঠে জানান সাধারণ শ্রমিক নেতাগণ।
তারপরও তিনি নিজ মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে আছেন আমজনতার মুখে মুখে “নেতা” সম্ভাষণে ভূষিত হয়ে।