1. admin@banglarmuktokontho.com : admin :
যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ, সেই দেশ কার? - বাংলার মুক্ত কন্ঠ
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাঁথিয়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত ?? জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল আহ্বায়ক হুমায়ুন সজিবের নামে প্রচারিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ?? অবৈধ দেশদ্রোহী জঙ্গি ইউনুস সরকার, যার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই, ক্যাঙ্গারু কোর্টের আরেকটা প্রহসনমূলক রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি অবৈধ ইউনূস,জামায়াত আর আমেরিকা: ভারত,রাশিয়া, চীনকে ঠেকাতে বাংলাদেশকে বলি দেওয়ার ত্রিমুখী আঁতাত  লুট হওয়া হাজার অস্ত্র এখন বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে : নির্বাচনের আগে রক্তস্নাত বাংলাদেশ, নির্বিকার সুদখোর ইউনূসের মূল লক্ষ্য কি? পুংগলী আমিনা মোস্তফা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত। কমলনগরে ইটভাটা শ্রমিককে অপহরণের চেষ্টা, নারীসহ ৫জনকে পিটিয়ে আহত ‎ যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ, সেই দেশ কার? কোথায় আজ মানবতা,নিরব জাতি কাঁদছে দেশ কবে হবে এই নিষ্ঠুরতার শেষ!

যে দেশে সংখ্যালঘুদের সংসদে আসা নিষিদ্ধ, সেই দেশ কার?

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ-জাতীয় দৈনিক বাংলার মুক্তকণ্ঠ ৭১
  • Update Time : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৫ Time View

বরগুনার বামনায় জামায়াতের জনসভায় আফজাল হোসেন নামের যে লোকটা মাইক হাতে দাঁড়িয়ে বললেন “৮০ পার্সেন্ট মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না”, তিনি আসলে কী বললেন সেটা একবার ভেবে দেখা দরকার। তিনি বললেন, এই দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না। শুধু তাই নয়, তিনি আরও স্পষ্ট করে বললেন চোরের হাত কেটে দেওয়ার শাসন চান তিনি। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে, জামায়াতের মঞ্চ থেকে এই কথা বলা হলো, এবং সেখানে উপস্থিত কেউ একটা শব্দও বললেন না।

এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা জামায়াতে ইসলামীর আসল চেহারা, যেটা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল তার মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণিত হলো। একটা নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে, রাস্তায় মানুষ মেরে, পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে, সরকারি সম্পত্তি জ্বালিয়ে দিয়ে যে ক্ষমতা দখল করা হয়েছে, সেই ক্ষমতার আসল উদ্দেশ্য এখন পরিষ্কার। মুহাম্মদ ইউনূস যে অন্তর্বর্তী সরকার চালাচ্ছেন, সেখানে জামায়াতের প্রকাশ্য পৃষ্ঠপোষকতায় এখন দেশকে একটা ধর্মীয় রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার প্রকল্প চলছে।

এই দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। জুলাই মাসের পর থেকে সারাদেশে কয়েক হাজার হিন্দু, খ্রীষ্টান পরিবার আক্রান্ত হয়েছে। চার্চে বোমা মারা হয়েছে, মন্দির ভাঙা হয়েছে, দোকান লুট হয়েছে, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। আর এখন প্রকাশ্যে জামায়াতের মঞ্চ থেকে বলা হচ্ছে যে বিধর্মীরা সংসদে আসতে পারবে না। এটা আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, এটা বাস্তব। যারা বলছিলেন জুলাই মাসের আন্দোলন ছাত্রদের করা, তাদের কাছে এখন কী জবাব আছে? ছাত্ররা কি চায় যে এই দেশে সংখ্যালঘুরা সংসদে যেতে না পারুক?

মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত। নোবেল পুরস্কার পাওয়া একজন মানুষ যিনি নিজেকে গণতন্ত্রের সমর্থক বলে দাবি করেন, তিনি কীভাবে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে দিলেন যেখানে জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে সংখ্যালঘু বিদ্বেষ ছড়াতে পারছে? তিনি কি জানেন না যে জামায়াত ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে মিলে এই দেশের মানুষ হত্যা করেছিল? তিনি কি জানেন না যে জামায়াত কখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি? তবুও এই সংগঠনকে রাজনৈতিক জায়গা দেওয়া হচ্ছে কেন?

উত্তরটা খুব সহজ। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে দাঙ্গাটা হয়েছে, সেটা শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না। সেখানে বিদেশি শক্তির অর্থ ছিল, সেনাবাহিনীর একাংশের সমর্থন ছিল, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডাররা ছিল। যারা পুলিশ সদস্যদের মেরেছে, যারা সরকারি ভবন জ্বালিয়েছে, যারা হিন্দু বাড়িতে হামলা করেছে, তারা কারা ছিল? এই প্রশ্নের জবাব কেউ দিচ্ছে না, কিন্তু বরগুনার মঞ্চ থেকে যে কথা বলা হলো তা এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

জামায়াতের এই বক্তব্যের পর যদি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই। আফগানিস্তানে তালেবান যেভাবে ক্ষমতায় এসে দেশটাকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, সিরিয়ায় যেভাবে ইসলামিক জঙ্গিরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ইয়েমেনে যেভাবে হুথিরা একটা সভ্য দেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে, বাংলাদেশও সেই পথেই হাঁটছে। এবং এর দায় শুধু জামায়াতের নয়, মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরও।

যে দেশে সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিক সমান অধিকার পাবেন, সেই দেশে এখন প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে বিধর্মীরা সংসদে যেতে পারবে না। এটা শুধু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, এটা বাংলাদেশের সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ। ১৯৭১ সালে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল একটা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে। আজ সেই স্বপ্নকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং এর নেতৃত্ব দিচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলামী।

বরগুনার ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই জবাব কি যথেষ্ট? একজন লোক প্রকাশ্যে সংবিধান লঙ্ঘন করে কথা বলছে, সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, আর প্রশাসন বলছে লিখিত অভিযোগ লাগবে? এটা কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয় যে নিজে থেকে ব্যবস্থা নেবে? নাকি এখন রাষ্ট্রযন্ত্র জামায়াতের হাতে চলে গেছে?

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের মানুষ কি এই পথে হাঁটতে চায়? যে দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে একসাথে লড়াই করে স্বাধীনতা এনেছিল, সেই দেশে এখন কি বলা হবে যে শুধু মুসলমানরাই সংসদে যেতে পারবে? ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া লাখো মানুষের রক্তের দাম কি এই? মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া হাজারো হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান যোদ্ধাদের ত্যাগ কি এভাবে অস্বীকার করা হবে?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 বাংলার মুক্ত কন্ঠ
সাইট নির্মাণ করেছেন ক্লাউড ভাই