
৭ই মার্চ বাঙালির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্মুখ লড়াই মূলত ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ থেকেই শুরু হয় এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ, জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
অতীতে সামরিক-বেসামরিক ও সুশীল নামধারী অনেক সরকারই ৭ই মার্চকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত স্মরণে এর গুরুত্ব বরং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমান সরকারও অতীতের সামরিক-বেসামরিক ও সুশীল নামধারী সরকারের পথেই হাঁটছে। ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোকে অপরাধ গণ্য করে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পূর্বে উগ্রবাদীরা নির্যাতন করেছে। অপরদিকে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বাড়ি, যা ইতোমধ্যে জঙ্গিদের আক্রমণ ও ভাঙচুরে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক বাড়ি অঙ্গনে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অপরাধে কয়েকজন রিক্সাচালককে গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে। একইভাবে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং একই কারণে অনেক নেতাকর্মীকে হয়রানি ও মবের শিকার হতে হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে দেশে আদৌ কোন সরকার রয়েছে?
এই ধরণের গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিষয়ে শুধু এটুকু বলতে চাই- ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। কেননা ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে সাতই মার্চ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরস্মরণীয় ও ক্রমশ উজ্জ্বলতর হতে থাকবেন। যা মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস দিয়ে চেপে রাখা যাবে না।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু,বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।