1. admin@banglarmuktokontho.com : admin :
পিতার রাজনৈতিক বিরোধের বলি ১৭ বছরের রাকিব ইসলাম - বাংলার মুক্ত কন্ঠ
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবাগতদের বরণ অনুষ্ঠিত কলম, খাতা আর ক্যামেরার গল্পে দুই দশকের সংগ্রাম ও সাফল্য নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪ সাঁথিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন কমলনগরে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন বাংলাদেশে ভয়াবহ ৫ আগস্টে নবম পদাতিক ডিভিশনকে কেন থামিয়ে রাখা হয়েছিল? সৌদি থেকে ফেরার পরই গ্রেপ্তার চাটখিলের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা স্বপন পরিবারে দাবি হত্যা,আরব আমিরাতে বাংলাদেশী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার খোঁজ মিলছে না মাদ্রাসা ছাত্রের, উদ্বিগ্ন পরিবার

পিতার রাজনৈতিক বিরোধের বলি ১৭ বছরের রাকিব ইসলাম

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ-জাতীয় দৈনিক বাংলার মুক্তকণ্ঠ ৭১
  • Update Time : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৪ Time View

বাজিতপুরে পিতার রাজনৈতিক বিরোধের বলি ১৭ বছরের রাকিব ইসলাম এই প্রতিহিংসা রাজনীতির শেষ কোথায়..!

বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নে ১৭ বছর বয়সী কিশোর মোঃ রাকিব ইসলামকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা এখন শুধু একটি নৃশংস অপরাধ নয়, এটি একটি ভয়ংকর বার্তার নাম। অভিযোগ উঠেছে, মূল লক্ষ্য ছিলেন তার বাবা। বাবাকে না পেয়ে ছেলেকেই তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়।

রাকিব ছিলেন হিলচিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ দ্বীন ইসলামের ছেলে।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বিকেলের দিকে বাড়ি থেকে বের হয় রাকিব। এরপর আর ফিরে আসেনি। কিছু সময় পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করা হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ নিখোঁজের ঘটনা ছিল না। শুরু থেকেই তারা অপহরণের আশঙ্কা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অপহরণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন মোঃ দ্বীন ইসলাম। ঘটনার আগে তাকে খোঁজা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে তুলে নেওয়া হয়।

এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ থেকে উদ্ভূত একটি ভয়ংকর প্রতিশোধমূলক অপরাধের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই দিকটি তদন্তে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা আজও স্পষ্ট নয়।
৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর—এই ১০ দিন রাকিব কোথায় ছিল, কী অবস্থায় ছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জনসমক্ষে আসেনি। এই সময় কোনো মুক্তিপণের দাবিও জানানো হয়নি, যা অপহরণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর করে পরিবারের আশঙ্কা, এই সময় তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকালে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা একটি মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে সেটি রাকিব ইসলামের মরদেহ বলে শনাক্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মরদেহটি ছিল ক্ষতবিক্ষত। এতে স্পষ্ট হয়, তাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ প্রকাশ্যে ফেলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অপরাধীরা ভয়হীনতারই পরিচয় দেয়।
ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। খুনিদের পরিচয়ও শনাক্ত হয়নি।

মোবাইল ফোনের তথ্য, সম্ভাব্য শত্রুতা, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ, ঘটনার আগে পাওয়া হুমকি—এসব দিক তদন্তে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার ছেলেকে অপহরণ করে হত্যা করা হলো, অথচ খুনিরা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি একজন রাজনৈতিক নেতার সন্তানও নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? রাকিব ইসলাম হত্যাকাণ্ড কেবল একটি কিশোরের মৃত্যু নয়। এটি অপরাধীদের দুঃসাহস, তদন্তের দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার প্রতিচ্ছবি।

যদি সত্যিই বাবাকে না পেয়ে ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকে, তবে সেটি সমাজের জন্য এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। এই মামলার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত শুধু রাকিবের পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের আস্থার জন্য জরুরি।

ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 বাংলার মুক্ত কন্ঠ
সাইট নির্মাণ করেছেন ক্লাউড ভাই