1. admin@banglarmuktokontho.com : admin :
ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে শিশুদের আবদার ‘রাক্ষস এসেছি রে...চাল দে’ - বাংলার মুক্ত কন্ঠ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিশু আদিবা হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ক্যাশলেস ভিশন-২০৩১ বাস্তবায়নে ২দিন ব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বালিয়াড়িতে অবৈধ প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এইচবিএম ইটভাটাকে জরিমানা! অবৈধভাবে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের দায়ে একেএইচ লজিস্টিকসকে জরিমানা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আইজিএ প্রকল্পের জনবলের মানববন্ধন রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবাগতদের বরণ অনুষ্ঠিত কলম, খাতা আর ক্যামেরার গল্পে দুই দশকের সংগ্রাম ও সাফল্য নরসিংদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার ৪

ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে শিশুদের আবদার ‘রাক্ষস এসেছি রে…চাল দে’

মোঃ মজিবুর রহমান,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
  • Update Time : সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১১৫ Time View

ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে শিশুদের আবদার ‘রাক্ষস এসেছি রে…চাল দে’

মোঃ মজিবুর রহমান,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:- গ্রামের পথে পথে ঘুরছে একদল শিশু। তাদের কয়েকজনের হাতে ঢোল। সঙ্গে আছে কাপড়-কাগজ দিয়ে বানানো এক ‘রাক্ষস’। দলটি বিভিন্ন বাড়ির উঠানে গিয়ে ডাক ছাড়ে ‘রাক্ষুস এসেছি রে…চাল দে। নইলে খেয়ে ফেলব তোকে!’ সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন বাসিন্দারা। হাসিমুখে শিশুদের থলেতে ঢেলে দিচ্ছেন কিছু চাল। আজ রোববার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামে দেখা মিলল এই শিশুদের। দলে ছিল বাঁধন, প্রান্ত, কৃষ্ণা, হৃদয়, অপূর্বসহ কয়েকজন। তাদের এই চাল সংগ্রহের উদ্দেশ্য বৈশাখী মেলা। গ্রামে ঘুরে ঘুরে তারা যে চাল পাবে, তা বিক্রি করে সেই টাকায় মেলা থেকে কিনবে নানা জিনিস। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপূর্ব বলে, ‘আজ এক গ্রাম ঘুরছি, ৩০ কেজির মতো চাল পেয়েছি। বিকেলে আরেক গ্রামে যাব। সব মিলিয়ে ভালো টাকা হবে।’ অপূর্বের সঙ্গে অন্য শিশুরা জানায়, মেলার দিন যেন তাদের কাছে এক স্বপ্নের মতো। সেখান থেকে কেউ কিনবে রসগোল্লা, বাতাসা, কেউ চড়বে নাগরদোলায়, কেউবা জড়ো হবে পুতুলনাচের আসরে। বেগুনবাড়ি এলাকার মহান্ত রায় বলেন, ‘এই চাল তোলার সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরে এই গ্রামে বৈশাখ এলে শিশুদের এমন উৎসবে মেতে ওঠার রেওয়াজ চলছে।’ দামপাড়ার রাধারানী রায় বলেন, ‘ওদের এভাবে আসতে দেখে খুব ভালো লাগে। আমি আজ আধা কেজি চাল দিয়েছি।’ পাশে দাঁড়ানো শশী মন যোগ করেন, ‘ছোটবেলায় আমরাও এভাবে চাল তুলে মেলায় যেতাম। তখন গরম-গরম জিলাপির ঘ্রাণে মেলা মাতত।’ স্থানীয় রাজনীতিবিদ আহসান হাবীব জানান, আগামীকাল সোমবার তাঁদের গ্রামে বৈশাখী মেলা বসবে। তার আগে শিশুর দল নেমেছে চাল সংগ্রহের অভিযানে। শিশুরা জানে না যে তাদের এই উল্লাস আসলে এক বিশাল সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অনুশীলন। কিন্তু বড়রা যাঁরা দেখছেন তাঁরা জানেন, এই উচ্ছ্বাস আসলে বাঙালির মাটির ঘ্রাণ। শিশুদের এমন উদ্যোগকে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে। তিনি বলেন, ‘এ এক আবহমান বাংলার রূপ। এই শিশুরাই আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রাণ। সহজ-সরল নাটুকে ভঙ্গিতে তারা নির্মাণ করে এক অন্য রকম পৃথিবী। এটি শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়ে বড় হয়ে ওঠার একটি মাধ্যম।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 বাংলার মুক্ত কন্ঠ
সাইট নির্মাণ করেছেন ক্লাউড ভাই