
কলম, খাতা আর ক্যামেরা—এই তিনটি সঙ্গীকে নিয়েই কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ২০ বছর। এক নিরলস পরিশ্রম, সংগ্রাম আর নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে একজন সাংবাদিকের পথচলা, যার প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে অভিজ্ঞতা, সাহসিকতা ও ভালোবাসার ছাপ।
লোকাল পত্রিকায় কাজের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধীরে ধীরে সেই পথ বিস্তৃত হয়েছে জাতীয় দৈনিক ও ক্রাইম ম্যাগাজিন পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি কর্মরত আছেন জাতীয় টেলিভিশনে—যা তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
অর্ধশতক পেরোনো এই অভিজ্ঞ সংবাদকর্মী যখন পেছনে ফিরে তাকান, তখন দেখতে পান সংবাদ জগতের প্রতিটি অলিগলি যেন তার চেনা। নরসিংদীর গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই রয়েছে তার পদচারণা। জন্মভূমির প্রতি গভীর টান থেকেই তিনি দেখেছেন এই অঞ্চলের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন ও সময়ের পরিবর্তনকে খুব কাছ থেকে।
গ্রামের মেঠোপথ, নদীর তীর, খাল-বিল আর ধানক্ষেতের সৌন্দর্যের পাশাপাশি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন পরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তন—পালতোলা নৌকা থেকে শুরু করে আজকের অটোরিকশা ও সিএনজির আগমন। সময়ের সঙ্গে নিজেকেও মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকতা জীবনে নানা চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সংবাদের কারণে একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছেন, এমনকি জিডিও হয়েছে বেশ কয়েকটি। তবুও দমে যাননি তিনি; বরং সত্য প্রকাশের অঙ্গীকারে অবিচল থেকেছেন।
বর্তমানে সাংবাদিকতার পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবেও তিনি পেয়েছেন ব্যাপক সাড়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কনটেন্ট ও সংবাদ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত, যা তাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতরের পর প্রকাশিত তার কয়েকটি কনটেন্ট ও সংবাদ ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
এই সাফল্যের পেছনে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মহান আল্লাহর প্রতি এবং সেইসঙ্গে তার দর্শক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি, যারা নিয়মিত তার কাজকে সমর্থন করে যাচ্ছেন।
নরসিংদী সদর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ রানা বাবুল বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন, যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন।
তার এই দীর্ঘ পথচলা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।