
রাজধানী ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘পেন গান’ বা কলম আকৃতির ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। দেখতে সাধারণ একটি স্টিলের কলমের মতো হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী সক্ষমতা—যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র মূলত গোপনে বহন ও হঠাৎ আক্রমণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। বাহ্যিকভাবে এটি একটি সাধারণ কলমের মতো—ওপরে পুশ-বাটন এবং সামনে সূচালো নিবের মতো অংশ থাকে। তবে এতে কালি নয়, বরং ভেতরে সংযুক্ত থাকে ছোট আকারের গুলি। নির্দিষ্ট কৌশলে ব্যবহার করলে এটি থেকে .২২ ক্যালিবারের বুলেট নিক্ষেপ করা সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের হাতে এ ধরনের ছদ্মবেশী অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে ছিনতাই, টার্গেট কিলিং কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বেশি। কারণ, এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং নিরাপত্তা তল্লাশিতেও অনেক সময় ধরা পড়ে না।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও ক্ষুদ্রাকৃতির অস্ত্রের বিস্তার আধুনিক অপরাধপ্রবণতার একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘পেন গান’ তারই একটি উদাহরণ, যা সহজলভ্য হলে তা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তপথে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে, যাতে এসব অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে।”
আইন অনুযায়ী, অনুমোদনহীন আগ্নেয়াস্ত্র বহন, সংরক্ষণ বা ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এ ধরনের গোপন অস্ত্রের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব।
সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা আচরণ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে।
-:সংগ্ৰহিত:-