
দেশে এখন হামে মানুষ মরছে। পঞ্চাশের বেশি শিশু মারা গেছে। ছাপান্নটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত এই নিরব মহামারীতে উদ্বেগ জানিয়ে লিখিত বিবৃতি দিয়েছে। আর এই দেশে তখন কী হচ্ছিল? রাজনীতি। ক্ষমতার হিসাব। নিজেদের টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা।
ইউনুস সরকারের আমলে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যত ভেঙে পড়েছিল। শুধু কোভিডের অজুহাত দিয়ে এটা ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ কোভিড তো অনেক আগেই শেষ হয়েছে। গত দুই বছরে লক্ষ লক্ষ শিশু হামের টিকা পায়নি। সেই ঘাটতি এখন মৃত্যু হয়ে ফিরে আসছে। একটা সরকার যদি দেশ চালানোর ন্যূনতম দায়িত্ববোধ রাখত, তাহলে এই ঘাটতি তৈরি হতে দিত না। অথবা তৈরি হলেও দ্রুত সংকট শনাক্ত করে জরুরি ব্যবস্থা নিত। কিছুই হয়নি।
এখন বিএনপি ক্ষমতায়। ফেব্রুয়ারি থেকে। দুই মাস হতে চলল। হাম ছড়িয়ে পড়েছে, মানুষ মরছে, আর নতুন সরকারের তরফে যা দেখা যাচ্ছে সেটা হলো নীরবতা। জরুরি টিকাদান অভিযান কোথায়? জাতীয় পর্যায়ের সংকট ঘোষণা কোথায়? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জনসম্মুখে আসা কোথায়? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিজেই বলে দিয়েছে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে দ্রুত টিকা দিতে হবে। সেই অভিযান শুরু হয়েছে কি?
এই দেশে একটা অদ্ভুত নিয়ম চালু হয়ে গেছে। সরকার বদলায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতি উদাসীনতা বদলায় না। ইউনুস সরকার দেশ চালিয়েছে নিজেদের এজেন্ডা নিয়ে, জনস্বাস্থ্য তাদের অগ্রাধিকারে ছিল না সেটা এখন প্রমাণিত। আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেনি যে তারা আলাদা কিছু। একটা মহামারি দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়ে আছে, আর সরকার ব্যস্ত অন্য হিসাবে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো আক্রান্তদের বয়স। নয় মাসের কম বয়সী শিশু মোট আক্রান্তের চৌত্রিশ শতাংশ। এই শিশুগুলো জন্মেছিল, একটু বাঁচতে চেয়েছিল, আর রাষ্ট্র তাদের জন্য সময়মতো একটা সুচ ফোটানোর ব্যবস্থাটুকুও করতে পারেনি। এই ব্যর্থতা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না। এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবহেলা।