
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহমেদ নিরব হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ছাত্র জনতা। একই সাথে হত্যাকাণ্ড আড়াল করা হচ্ছে দাবি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের মুক্তির দাবিও জানান তারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পায়রা চত্বরে সম্মিলিত ছাত্র ঐক্যের ব্যান্যারে মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান রাজু’র পরিচালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র মজলিসের জেলা সভাপতি উসামা হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি আব্দুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাধীন আহমেদ, ছাত্রনেতা এইচএম নাঈম মাহমুদ প্রমুখ।
এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় না এনে উল্টো জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের গ্রেফতার করে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, গত ৭ মার্চ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্য নিরব আহমেদ নিহত হন। এ ঘটনার পর রাতে শহরে তিনটি বাসে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করে এবং আওয়ামী লীগ নেতা হারুণের তেল পাম্পে ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই পুলিশ উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জুলাই যোদ্ধাদের আটক করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন দাবি করছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তারা আসামীদের গ্রেফতার করেছে। কিন্তু পুলিশ কেন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করছে না? কেন পুলিশ সিসি টিভি ফুটেজ উধাও করে দিলো? পুলিশ আটক নেতাকর্মীদের জুলাই যোদ্ধা হিসেবে কটুক্তি করে নানা ধরণের হয়রানি করেছে বলেও মানববন্ধনে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে দ্রুত বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্পে ভাংচুরের সিসি টিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং জুলাই যোদ্ধা নিরব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নিরব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না করে প্রশাসন নাটকীয়তা সৃষ্টি করছে। ৫ আগস্টের আগের মতো পুলিশ রাতের আধারে শহরের বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালিয়ে সাধারণ ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।
এসময় বক্তারা হুঁশিয়ারি করে বলেন, দ্রুত নিরব হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও তারা জানান।
গত শনিবার ঝিনাইদহ শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে পাম্প কর্মীদের হামলায় নিরব নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই ঘটনার পরে রাতেই তাজ ফিলিং স্টেশন, সৃজনী এনজিও সংস্থার মালিক ও আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন একটি তেল পাম্পে ভাংচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
পরদিন সকালে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় রোববার দিবাগত মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে সোপর্দ করে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া নেতারা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং রাসেল হুসাইন।
এদিকে গতকাল প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আটক নেতারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা থানায় ওসি’র সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত