1. admin@banglarmuktokontho.com : admin :
আগুনে পোড়া বাড়ি, রক্তে ভেজা মাটি : বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী উপহার - বাংলার মুক্ত কন্ঠ
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ফরিদপুর উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। ফরিদপুর মুক্তিযোদ্ধের প্রজন্ম দলের বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত । ফরিদপুর মানবতার আরেক নাম তৃতীয় লিঙ্গের বিজলী মেম্বর। নিরাপদ সড়কের দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন দিঘুলিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার নিজস্ব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত পাবনায় বিনাহালে রসুন চাষে ঝুঁকছে কৃষক আগুনে পোড়া বাড়ি, রক্তে ভেজা মাটি : বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী উপহার চাঁদপুরে ফরিদ গন্জ উপজেলা দুর্বৃত্তের গু লি তে মোটরসাইকেল আরোহী নি হ ত.. ফরিদপুর উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের উদ্দ্যোগে মশকনিধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আগুনে পোড়া বাড়ি, রক্তে ভেজা মাটি : বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনী উপহার

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ- জাতীয় দৈনিক বাংলার মুক্তকন্ঠ ৭১
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ Time View

 

বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আজ এক ভয়াবহ অস্তিত্বের সংকটে দাঁড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিদেশি অর্থায়ন, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা আর সামরিক বাহিনীর মদদে সুপরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন এক ভয়ংকর মাত্রায় পৌঁছেছে। সুদী মহাজন ইউনুস এবং তার সহযোগী যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে যে অবৈধ শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে, তার অধীনে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রতিদিন হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ আর উচ্ছেদের শিকার হচ্ছে।

যশোরের অভয়নগরের নির্মল বিশ্বাস আর শিউলি বিশ্বাসের কথাগুলো শুনলে বুঝা যায় কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সংখ্যালঘুরা। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা কেড়ে নেয়া হয়েছে, আর এখন তারা দাঁড়িয়ে আছে এক অসহায় পরিস্থিতিতে। কোন দলকে ভোট দিলে বাঁচবে, কার কাছে গেলে নিরাপত্তা পাবে, সেই মৌলিক প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই তাদের কাছে। এই হলো ইউনুসের তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসনের আসল চেহারা।

বিএনপি আর জামায়াতের ইতিহাস সংখ্যালঘু নির্যাতনে ভরপুর। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যে নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল সংখ্যালঘুদের উপর, তার স্মৃতি এখনো তাজা মানুষের মনে। সেই একই শক্তি আবার ক্ষমতায় এসেছে, এবার আরো বেপরোয়াভাবে। পাঁচই অগাস্টের পর আড়াই হাজারেরও বেশি ঘটনায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা হয়েছে। ভালুকায় দিপু চন্দ্রকে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, রাউজানে বসতবাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে, হিন্দু ব্যবসায়ীদের একের পর এক খুন করা হচ্ছে। এসবই চলছে ইউনুসের নাকের ডগায়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই, কোনো বিচার নেই।

এই অবৈধ সরকার আর তাদের মদদপুষ্ট বিএনপি-জামায়াত জোটের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা বাংলাদেশকে একটি সংখ্যালঘুমুক্ত দেশে পরিণত করতে চায়। নির্বাচনের আগেই তারা যে নমুনা দেখাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে নির্বাচনের পরে কী ধরনের নরকে পরিণত হতে পারে সংখ্যালঘুদের জীবন। যে দেশে একজন মানুষকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়, সেই দেশে গণতন্ত্রের কথা বলা হাস্যকর।

ইউনুস এবং তার মদদপুষ্ট সেনাসমর্থিত সরকার যে বিদেশি টাকায় পরিচালিত হচ্ছে, তা আর গোপন নেই। জুলাইয়ের দাঙ্গা ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যেখানে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। এখন সেই একই শক্তি দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার অভিযানে নেমেছে। রাষ্ট্রযন্ত্র চুপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয়, আর ইউনুস ব্যস্ত তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে।

যে দেশে সংখ্যালঘুরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পায়, নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশ করতে পারে না, নিজেদের জীবন রক্ষার জন্য পালাক্রমে রাতে পাহারা দিতে হয়, সেই দেশকে গণতান্ত্রিক বলার কোনো অধিকার নেই। ইউনুসের অবৈধ সরকার এবং বিএনপি-জামায়াত জোট মিলে বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনের নামে যে প্রহসন চলছে, তা আসলে সংখ্যালঘুদের জন্য আরেকটি বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

যশোরের অভয়নগরের শিউলি বিশ্বাসের কথা মনে রাখা দরকার। তিনি বলেছেন, “আমরা হয়ে গেছি বলের মতো, যেদিকে যাই সেদিকে লাথি খাই।” এই একটি বাক্যেই ফুটে উঠেছে বর্তমান বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা। ইউনুস আর তার সহযোগী যুদ্ধাপরাধীদের শাসনে সংখ্যালঘুরা হয়ে পড়েছে ফুটবলের মতো, যাদের নিয়ে খেলা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য।

বিএনপি-জামায়াত জোট মুখে গণতন্ত্রের কথা বলছে, কিন্তু মাঠে তারা চালাচ্ছে সংখ্যালঘু নির্মূল অভিযান। নির্বাচনের আগেই তারা দেখিয়ে দিয়েছে কী করতে পারে। ঘরে আগুন দেয়া, মানুষ পুড়িয়ে মারা, ব্যবসায়ী খুন করা, এসবই তাদের কৌশলের অংশ। ভোটের পরে যদি তারা পূর্ণ ক্ষমতায় আসে, তাহলে না জানি কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে সংখ্যালঘুদের জন্য।

ইউনুসের অবৈধ সরকার, বিএনপি-জামায়াতের যুদ্ধাপরাধী নেতৃত্ব আর সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট এই শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নেই, ন্যায়বিচার নেই, মৌলিক মানবাধিকার নেই। নির্বাচনের নামে যে নাটক মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে, তার আসল উদ্দেশ্য হলো সংখ্যালঘুদের আরো বেশি অসহায় আর নিরাপত্তাহীন করে তোলা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 বাংলার মুক্ত কন্ঠ
সাইট নির্মাণ করেছেন ক্লাউড ভাই