
নরসিংদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতি, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মাহমুদ আক্তারকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্প্রতি একাধিক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মাহমুদ আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ফাইল আটকে কমিশন আদায় এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হলে তদন্তের প্রাথমিক ধাপ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে।
শিবপুর উপজেলার ভুক্তভোগী রুকসানা বেগম, দেলু মিয়া ও আসমা বেগমসহ কয়েকজন জানান, গণমাধ্যম সাহসিকতার সঙ্গে তাদের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেছে বলেই এ পদক্ষেপ সম্ভব হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এই ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, সত্য প্রকাশে গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘অপরাধ কণ্ঠ’-এর পক্ষ থেকে অ্যাডমিন সামিয়া সরকার বলেন, “সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার। গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।”
তবে সচেতন মহলের দাবি, কেবল বদলি নয়—অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা যায়।
সাংবাদিক মাসুদ রানা বাবুল বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার ছিলাম। বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যেও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কলম ও ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। আজকের এই পদক্ষেপ সেই প্রচেষ্টারই ফল।”
তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—আমাদের নরসিংদী, আমাদের গর্ব।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, গণমাধ্যম যদি দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।