আবারও ইসলাম জিন্দাবাদ 'ও' নারাযে তা কবীর আল্লাহ আকবর বলে আফগানিস্তানের মুসলমানদের উপর বিমান হামলা করলো পাকিস্তান।
গত অক্টোবরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে ৭০ জন মুসলমান নিহত হওয়ার পর ইসলামী জিহাদের নামে আফগানিস্তানে আবার হামলা চালালো বড় ভাই পাকিস্তান। পাকিস্তানের মতো এমন হামলা যদি প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের উপর চালাতো এতক্ষণে বাংলাদেশের শাউ মাউ হাদীরা ভারতের দিল্লী দখল করে ফেলতো চায় ‼️
মুসলিম বিশ্বে একটা কোগা মারা তত্ত্ব হচ্ছে " মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই।" তাই রোযার দ্বিতীয় দিন মধ্যরাতে আফগানিস্তানে নিরীহ মুসলমানদের উপর বিমান হামলা চালালো পাকিস্তান।রোযাকে বলা হয় সংযমের মাস। পাকিস্তানের ছোট ভাই বাংলাদেশের মধ্যে আপনি এখন অহরহ " পাকিস্তান জিন্দাবাদ" শুনতে পাবেন। বাংলাদেশের একশ্রেণীর পঙ্গপালের কাছে মুসলমানদের রোযা, হজ্ব , যাকাত , ঈমান ও আমলের অপর নাম হচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের জন্য এদের সাত খুন মাফ।১৯৭১ সালে আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদ হত্যার পরও যে পঙ্গপালের দল পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়, এদের আবার একদল আহম্মক মাথায় তুলে নাচে। পাকিস্তান এদের লুঙ্গি খুলে নুনু কেটে দিলেও এদের কাছে তা বিশাল সওয়াবের কাজ।এই দেশের অধিকাংশ মুসলমান মনে করে , লুঙ্গি খুলে একবার পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিতে পারলেই এরা চেলচেলাইয়া বেহেশতে চলে যাবে।তাই পাকিস্তান এদের কাছে জান্নাত আর জামায়াতে ইসলাম হচ্ছে জান্নাতের চাবি।
আফগানিস্তান তালেবান সরকারের মূখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, " খোস্ত প্রদেশের গোরবুজ জেলায় মধ্যরাতে শিশুরা যখন ঘুমিয়ে পড়েছে তখন পাকিস্তান এই হামলা চালায়। পাকিস্তানের এই হামলায় ৯ শিশু ( পাঁচ ছেলে এবং তার মেয়ে) ও এক নারী সহ সর্বমোট ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। " মজার বিষয় হচ্ছে _ এখন বাংলাদেশের কোন কাঠমোল্লা মাটি চাপড়ে পাকিস্তানের উপর আল্লাহর গজব পড়ুক এই সংক্রান্ত কোন ওয়াজ আর করবে না।এখন আর জামায়াতের আমীর শফিক মন থেকে পাকিস্তানের উপর খোদার গজব পড়ুক বলে কোন বিবৃতি দিবে না।এই ঘটনা যদি ভারতের মুসলমানদের উপর হতো তাহলে এতক্ষণে জামায়াতের আমীর নাচতে নাচতে লুঙ্গি উঠিয়ে কমপক্ষে ১০০ বার পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতো।
পাকিস্তানের জন্য ১৯৭১ সালে নির্বিচারে বাংলাদেশের নারী ও শিশু ধর্ষণ যায়েয ছিলো।নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করাকে জামায়াত শিবির গণিমতের মাল বানিয়ে যায়েয করে নেয়।
গতকাল রাত ১২ টায় আফগানিস্তানের শিশু ও নারীরা যখন ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার স্বপ্ন দেখে ঘুমাতে গেছে ঠিক তখনি নারায়ে তা কবীর আল্লাহ আকবর বলে আফগানিস্তানকে জঙ্গিমুক্ত করতে এই হামলা চালায়।২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ১৫ জন নিরীহ মুসলমান হত্যা করেছে পাকিস্তান।সবকিছুই পাকিস্তানের জন্য যায়েয। বাংলাদেশে যেমন জামায়াত হচ্ছে আল্লাহর দল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের একদল পঙ্গপালের কাছে জান্নাতের দেশ হচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তানকে ওরা আল্লাহর দেশ ভেবে তৃপ্তি পায়। এজন্য পাকিস্তানীদের সকল কুকর্ম " পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলে যায়েয করে নেয় একদল ভণ্ড কাঠমোল্লা।
২০২৪ সালে আফগানিস্তানে ১৫ জন নিরীহ মুসলমান হত্যা করেও পাকিস্তান থেমে নেয়। জান্নাতের নেশায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবার আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তিনজন ক্রিকেটার সহ ১০ জন মুসলমান হত্যা করে পাকিস্তানীরা।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই জান্নাতে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানীরা গত ৭৮ বছর ধরে নির্বিচারে আফগান মুসলমানদের হত্যা করছে।১৯৮০ - এর দশকে আমেরিকার সৈন্যদের সাথে আফগানিস্তানের ভেতরে ঢুকে পাকিস্তানীরা পাঁচ লাখ নিরীহ আফগান মুসলমানদের হত্যা করে। পাকিস্তান " মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই" বলে আফগানদের জান্নাতের টিকেট ধরিয়ে দিচ্ছে গত ৭৮ বছর ধরে।
১৯৪৯ -৫০ এর দশকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের মুসলমানদের হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। পরবর্তীতে আইয়ুব সামরিক সরকারের সময় হাজার হাজার নিরীহ আফগানী মুসলমানকে হত্যা করে পাকিস্তান।১৯৬০- ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার অর্থায়নে পাকিস্তান নির্বিচারে আফগান মুসলমানদের হত্যা , ও আফগান নারীদের ধর্ষণ সহ লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে আফগানিস্তান ছাড়া করে। পাকিস্তানের ভেতরে টিটিপি ২ হাজার ৫৪৬ জন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্মকর্তা হত্যা করে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাকিস্তানের পশতুন প্রদেশের নিরীহ মুসলমানদের নির্বিচারে ধর্ষণ করছে, শিশুদের হত্যা করছে। কিন্তু পাকিস্তানের উপর এখন পর্যন্ত আসমান থেকে কোন গজব নাজিল হয় নাই।কোন মোল্লাকে মসজিদে দু' হাত উঠিয়ে বলতে শোনা যায় নাই -
ইয়া আল্লাহ , তুমি পাকিস্তানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ধ্বংস করে দাও। "" সত্য সবসময় সুন্দর""