১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। মূলত সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা মনে করিয়ে দিতেই বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়।
একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয় তার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায়। গর্বের সাথে স্মরণ করি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণমাধ্যম আধুনিকায়নের এক সোনালী অধ্যায় পার করেছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে প্রথম বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন থেকে শুরু করে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন এবং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ ছিল বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। আমাদের সময়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গঠনমূলক সমালোচনার যে সংস্কৃতি ছিল, তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।
তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মসূচিগুলো প্রচারে মূলধারার অধিকাংশ গণমাধ্যমের কুণ্ঠাবোধ ও বিমাতাসুলভ আচরণ পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। মনে রাখতে হবে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানে সত্যকে তার আপন গতিতে চলতে দেওয়া। সত্যকে সাময়িকভাবে চেপে রাখা গেলেও কখনো মুছে ফেলা যায় না।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়া সাংবাদিকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। সকল বাধা পেরিয়ে গণমাধ্যম তার নিরপেক্ষতা ও হারানো গৌরব ফিরে পাবে, এটাই আজকের প্রত্যাশা।
শুভেচ্ছান্তে,
Balayet Hossain Balayet
সিনিয়র সহ-সভাপতি, চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগ।