ঝিনাইদহে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে ‘মিথ্যা মামলায়’ কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর অপসারণ দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ জেলার সাংবাদিক সমাজ। এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শৈলকুপার এক পেশাগত সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষ নিজেই প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, ওই সাংবাদিক ঘটনার সাথে জড়িত নন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাদীর বক্তব্যে একই বিষয় উঠে এসেছে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “একজন নিরীহ সাংবাদিককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর চরম আঘাত এসেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।” সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে ওই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, শৈলকুপা থানার বর্তমান ওসি দায়িত্বে আসার পর থেকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বলেন, “এই ওসি’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তাকে দ্রুত প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
এ সময় বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও জানান।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিকরা অংশ নেন। এবং একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সমাজের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।