
রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সামনে টানা তিন দিনের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
গতকাল ২১শে এপ্রিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের সময় সুপারিশবঞ্চিতদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তারা তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, নিয়োগে বিলম্ব এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (কর্মসূচির শেষ দিন) কয়েক হাজার প্রার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। তারা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং স্লোগানের মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান। অনেকেই বলেন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও নিয়োগ না পাওয়ায় তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন,
“আপনাদের দাবি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, এবং আমরা সেই দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, সুপারিশবঞ্চিত প্রায় ছয় হাজার প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শূন্যপদ সৃষ্টি, নীতিমালা সংশোধন বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
“আমরা চাই না কোনো যোগ্য প্রার্থী অবিচার বা অবহেলার শিকার হোক। খুব দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন,”—যোগ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা আপাতত তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু না হলে পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি বলেন,
“আমরা দীর্ঘদিন ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছি। আজ মন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি আশ্বাস পেয়েছি, তাই আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করছি। কিন্তু যদি বাস্তব অগ্রগতি না দেখি, তাহলে আমরা আবার রাজপথে ফিরব।”
সার্বিকভাবে, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে তাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।