রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ও এসআই শাশ্বত দত্ত চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদ জবরদখল ও অফিসের মালামাল বিক্রির অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায্য দাবি আদায় এবং ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী অফিস কর্মচারী সানি সহ কয়েকজনের যোগসাজশে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জোরপূর্বক সম্পদ দখল করে বিক্রি করেন। এছাড়া কোনো আদালতের নির্দেশনা ছাড়াই একটি অ্যাপার্টমেন্টের চাবি এসআই-এর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গণ অধিকার পরিষদ-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিলা শেখ। তিনি বলেন, “আমি এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে আসিনি। একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে অসহায় ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
নারী উদ্যোক্তা হাফিজা আক্তার নদী খান বলেন, “আমরা গত ৫ এপ্রিল তুরাগ থানার ওসি ও এসআইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাইনি। এসআই আমাদের কথা শুনতে রাজি হননি। তাই ন্যায়বিচারের দাবিতে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।”
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হীরা আক্তার বলেন, “আমি এক মাসের বেশি সময় ধরে ঘরের বাইরে আছি। আমার ঘরে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে এবং ঘরের চাবি পুলিশের কাছে। যদি আমার স্বামী দোষী হন, আমরা আদালতের রায় মেনে নেব। কিন্তু কোনো আইনি নির্দেশনা ছাড়াই ঘরের চাবি নিয়ে যাওয়া এবং মালামাল বিক্রি করা অন্যায়।”
তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে তারা আশাবাদী।