সারাদেশে আটটি বিভাগের জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ পাম্পে গিয়ে ফিরে আসছে খালি হাতে। কৃষক ট্রাক্টরে তেল দিতে পারছে না, পরিবহন শ্রমিক গাড়ি চালাতে পারছে না, ছোট ব্যবসায়ী জেনারেটর চালু রাখতে পারছে না। আর এই সংকটের জন্ম দিয়েছে খোদ সরকারের একজন কর্মকর্তা, যার পেছনে আছে এই সরকারের চিরপরিচিত দাপট আর ক্ষমতার অহংকার।
একটা তেলবাহী লরি রাস্তায় যান্ত্রিক ত্রুটিতে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। শ্রমিকরা গাড়ি মেরামত করছিল। নীলফামারীর এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে হাজির হলেন। গাড়ির কেবিনে পাওয়া গেল দশ লিটার পেট্রোল আর দুই লিটার ডিজেল। এটুকু জ্বালানি যে কোনো তেলবাহী লরিতে থাকা অস্বাভাবিক কিছু না, গাড়ির নিজের কাজেই লাগে। কিন্তু সেই সামান্য তেলকে "অবৈধ পাচার" বানিয়ে তিনজন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড আর এক লাখ টাকা জরিমানা করা হলো। ঘটনাস্থলে, বিচার ছাড়া, আপিলের সুযোগ ছাড়া।
এটা ন্যায়বিচার না। এটা ক্ষমতার নগ্ন প্রদর্শনী।
বিএনপি ফেব্রুয়ারির সেই নির্বাচনের পর থেকে যে সরকার চালাচ্ছে, তার চরিত্রটা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। বড় দলগুলোকে বাইরে রেখে, জনগণের বড় অংশকে ভোট কেন্দ্র থেকে দূরে রেখে, একটা সাজানো ব্যবস্থায় ক্ষমতায় আসা এই সরকারের কর্মকর্তারা এখন মাঠে নেমেছেন "শাসন" দেখাতে। সেই শাসনের শিকার হচ্ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, ট্যাংকলরির চালক, হেলপার, ম্যানেজার।
বিএনপির ইতিহাস কি কেউ ভুলে গেছে? জিয়াউর রহমান যে দলটা বানিয়েছিলেন সেনানিবাসের ছায়ায়, সেই দলের শাসনামলে বাংলাদেশ কতবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেটা রেকর্ডে আছে। হাওয়া ভবনের কথা মানুষ মনে রেখেছে। সেই একই দলের নতুন সরকার এসে রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গরিব শ্রমিকদের জেলে পুরছে। চরিত্র বদলায় না, শুধু নাটকের মঞ্চ বদলায়।
রংপুর বিভাগের ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতি দিয়েছে। পেট্রোল পাম্পের মালিকরাও তাদের সঙ্গে আছে। এই ধর্মঘট শুধু তিনজন শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে না, এটা একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ। সেই সিস্টেম যেখানে ক্ষমতায় থাকা লোকজন যা খুশি তা করতে পারে, আর গরিব মানুষ জবাব দেওয়ার সুযোগ পায় না।
শ্রমিকরা দাবি করেছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে সরাতে হবে এবং আটক শ্রমিকদের মুক্তি দিতে হবে। সরকার কী করবে? যে সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় এসেছে, সে কি এখন গায়ের জোরেই ধর্মঘট ভাঙতে নামবে, নাকি মানুষের ন্যায্য দাবিটুকু মানবে?
উত্তরের আট জেলার মানুষ এখন অপেক্ষায় আছে। তেলের জন্য না,উত্তরের জন্য।